সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরও ভয়াবহ : জামায়াত আমির হবিপুর-পুরান সিংচাপইড় সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ঘন ঘন লোডশেডিং, ভোগান্তিতে মানুষ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী শহীদ হাফিজ হত্যার বিচার অবশ্যই হবে : এমপি কয়ছর আহমেদ এক মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি চীনের আহ্বান হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তুমি সব বোঝো মানি, যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন কৃষকেরা : এমপি কয়ছর আহমদ হাওরে ‘নয়া দুর্যোগ’ জলাবদ্ধতা জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার সুনামগঞ্জের নতুন ডিসি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান প্রাণের উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ শিক্ষা ক্ষেত্রেও সিলেটকে এগিয়ে নিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী দ্রোহে-প্রতিবাদে উদীচী’র বর্ষবরণ আসমানে মেঘ দেখলেই কৃষকের মনে শঙ্কা জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় সংবর্ধনা রেললাইন, শুল্ক স্টেশনসহ একগুচ্ছ দাবি সংসদে তুলে ধরলেন এমপি নূরুল ইসলাম

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাতিল, অবহেলিত জনপদের প্রতি আরেক অবহেলা

  • আপলোড সময় : ২৫-১১-২০২৫ ১২:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-১১-২০২৫ ১২:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাতিল, অবহেলিত জনপদের প্রতি আরেক অবহেলা
দেশের গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে একনেকে অনুমোদন পাওয়া “৫০ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প” ছিল সরকারের একটি অনন্য উদ্যোগ। বিশেষত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জে আবাসিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই আশাকে আবারো নিভিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাহিরপুরের কেন্দ্রটি নির্মাণ না করে সেটি জগন্নাথপুরে স্থানান্তরের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, আর শান্তিগঞ্জে কেন্দ্র নির্মাণে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে প্রক্রিয়াটি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে। অথচ একনেকে অনুমোদনের পর ভূমি প্রস্তুতি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রত্যাশার ভিত্তিতে কাজ চলছিল- বিশেষ করে শান্তিগঞ্জের ক্ষেত্রে জমিও প্রস্তুত ছিল। আমরা মনে করি, তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জে আবাসিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শুধু তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগই তৈরি করতো না; বরং নতুন কর্মসংস্থান, স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা এবং বিদেশগামী শ্রমবাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পথও সুগম করতো। কর্তৃপক্ষের যুক্তি “তাহিরপুরে প্রশিক্ষণার্থী পাওয়া যাবে না” - এটি কতটুকু যৌক্তিক এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। পাহাড়ি-হাওরবেষ্টিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। সেখানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র না দিলে প্রশিক্ষণার্থী কোথায় গড়ে উঠবে? কেন্দ্র না থাকার কারণেই তো প্রশিক্ষণার্থী অনুপস্থিত, আর সেই অনুপস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্র বাতিল - এটা উন্নয়নচিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সমাজসেবক আবুল হোসেনের প্রশ্ন- “নতুন কেন্দ্র তৈরি হোক, কিন্তু আমাদেরটা কেন কাটা হবে?” - এটি বাস্তব এবং ন্যায্য প্রশ্ন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই এক কথায় বলছেন- অবহেলিত অঞ্চলে উন্নয়ন না এনে উন্নয়নকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্তের ফলে উপকারভোগী এলাকার হাজারো বেকার তরুণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হারাবে। এর ক্ষতি শুধু তাহিরপুর বা শান্তিগঞ্জের নয় - ক্ষতি হবে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের, ক্ষতি হবে জাতীয় অর্থনীতির। আমরা মনে করি, নির্বাচনী অঙ্গীকার হোক বা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি - সবশেষে লক্ষ্য একটাই: পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়া। সেই লক্ষ্যকে উপেক্ষা করে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ কেটে নেওয়া কোনোভাবেই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জের কেন্দ্র বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ